viswa adivasi divas

বিশ্ব আদিবাসী দিবস

তথ্য

 

‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ 

১৯৯৪ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর জাতিসংঘ এর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ৯ই আগষ্ট এ ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই অনুসারে এই দিনটিতে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র গুলো যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালন করে।

দীর্ঘ আড়াই দশক আন্তর্জাতিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর বিচার বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘ ২০০৭ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬১তম অধিবেশনে আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় যা, United Nation Declaration on the Rights of Indigenous Peoples বা আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কিত ঘোষণাপত্র বলা হয়। জাতিসংঘের এই ঘোষণাপত্র (২০০৭) অনুসারে সারা বিশ্বে বসবাসকারী আদিবাসী দের উচ্ছেদ বন্ধ করা, মাতৃভাষা শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ অধিকার,সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করে পরিচালনার অধিকার সমূহ বাস্তবায়ন করা প্রতিটি দেশের কর্তব্য।

কিন্তু উপরে বর্ণিত জাতিসংঘের এই ঘোষণাপত্র অনুসারে কোন অধিকার ই বাস্তবায়িত হয় নি, বরঞ্চ বলা যেতে পারে লংঘিত হয়েছে। সংবিধানে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে, জাতিসংঘেও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তাহলে এই দূর্দশা কেন, এর পেছনে কারণ গুলিই বা কি??????

প্রথমত, শাসক শ্রেণীর মধ্যে ন্যুনতম ইচ্ছে বা আগ্রহ নেই আদিবাসীদের তাদের অধিকার গুলি প্রদান করার বা বাস্তবে রূপ দান করার। আজকের এই আদিবাসী দিবস পালন শুধুমাত্র ভাঁওতা বাজি ছাড়া কিছু নয়। প্রশাসনের যদি সদিচ্ছা থাকত তবে আদিবাসী পরিবার গুলি কোন দিন ও গৃহহীন হতো না বা তাদের ন্যুনতম অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান বা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতনা।

দ্বিতীয়ত, প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলি সর্বদা আদিবাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে বদ্ধ পরিকর। রাজনৈতিক দল গুলি নিজেদের প্রয়োজনে আদিবাসী নেতাদের সৃষ্টি করে, এদের মাধ্যমেই সাধারণ আদিবাসী দের ওপর কতৃত্ব ফলায়। হাস্যকর বিষয় হলো আদিবাসী নেতারাও বিনা বাক্যব্যয়ে তাদের প্রভুর প্রতি দায়িত্ব পালন করে এবং নিজেদের কে ‘মুই কি বা হনু রে‘ গোছের মনে করে। নিজের অস্তিত্ব টুকুও ভুলে যায়।

তৃতীয়ত, আদিবাসী নেতাদের অকর্মণ্যতা,স্বার্থপরতা,দূরদৃষ্টির অভাব ও অনেকাংশে দায়ী। তারা নেতা রূপে মঞ্চকে সুসজ্জিত করতে এবং বক্তব্য রাখতেই বেশি আগ্রহী। তারা আদিবাসীদের হয়ে নেতৃত্ব দান করে না, নেতৃত্ব দান করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে। তারা জানে দল বিরোধী বা আদিবাসী দের হয়ে কথা বললে বা কাজ করলে, অআদিবাসী দের এই দলগুলি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাদের বের করে দেবে। এই কারণের জন্য আদিবাসী MLA, MP রাও মুখে কুলুপ এঁটে থাকে।

চতুর্থত, কিছু নেতার আবির্ভাব হয়েছে যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে, না আছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য, না আছে উদ্দেশ্য, বিচ্ছিন্ন ভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
পঞ্চমত,এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যদি কোথাও অধিকার রক্ষার লড়াই এ আদিবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হতে সক্ষম হল তো,বিচ্ছিন্নতা বাদী, মাওবাদী, সন্ত্রাসবাদী আর ও কত রকম বাদীর উপাধিতে ভূষিত করে নিষ্ঠুর ভাবে দমন করা হয়।

সর্বোপরি বলা যায় এসবের পেছনে মূল কারণ, বৈদিক যুগে সৃষ্ট বর্ণভেদ প্রথা বা জাতিভেদ প্রথা যা, আজও বিদ্যমান। যতদিন এই জাতিভেদ প্রথা থাকবে ততদিন জাতিগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠতর হওয়ার লক্ষ্যে লড়াই টাও জারি থাকবে। জাতিভেদ প্রথার জন্য আজও অন্যান্য মনীষি দের ছবির পাশে ড. আম্বেদকর কে পাওয়া যায় না, যিনি সংবিধান প্রণেতা রূপে পরিচিত। পাওয়া যায় না আদিবাসী দের জীবনযাত্রার মূল কাহিনী, তাদের লড়াই এর ইতিহাস, তাদের আত্মবলিদানের ইতিহাস।
আমাদের এই লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই অধিকারের লড়াই, এ লড়াই আত্মত্যাগের লড়াই ।

লেখিকা- ললিতা হেমব্রম (শিক্ষিকা)

3Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.