“ধর্ষণ কেন” /ব্লগ পোস্ট (লেখিকা-ললিতা হেমব্রম)

Blog(ব্লগ) মতামত

 

                                                                        “ধর্ষণের জন্য দায়ী পুরুষতন্ত্র “

     এই দাবীকে নস্যাৎ করে বলছি যে “পুরুষ তন্ত্র” বলে কোন তন্ত্র নেই,  তাই ধর্ষণের জন্য পুরুষ জাত কে দায়ী করতে পারি না।  কোন পুরুষ কে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সে কখনোই চাইবে না কোন মেয়েকে  বা তাঁর কোন আত্মীয়াকে ধর্ষণ করতে।

    যে বাদ বা তন্ত্র রয়েছে তা হলো ব্রাহ্মণ্যবাদ বা ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র ।  যে তন্ত্র অনুসারে নারী কে মানুষ বলে  মনে করা হয় না,  মনে করা হয় একটি দুর্বল নারী শরীর,  যার কোন নিজস্ব শক্তি নেই,  যাকে সর্বদা পিতা, স্বামী এবং পুত্রের অধীন থাকতে হয়।যাকে যেকোন সময়,যেকোন মুহুর্তে ভোগ করা যেতে পারে,যেকোন ভাবে অত্যাচার করা যেতে পারে।  ব্রাহ্মণ্য বাদের এই চিন্তা ভীষণ গভীর ভাবে মানুষ এর মনের মধ্যে গেঁথে গেছে। এমনকি বেশিরভাগ  নারীরাও এই মতে বিশ্বাসী। সে যে দুর্বল  সর্বদা তা  প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিক নিয়মেই দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার আজীবন থাকবে।  আমরা দেখে নিই মনুসংহিতায় কি আছে।

  মনুসংহিতা অনুসারে

২/২১৩- ইহজগতে পুরুষদের দূষিত করাই নারীদের স্বভাব। সুতরাং পণ্ডিত গণ নারীদের সম্পর্কে কখনো অসতর্ক হন না।২/২১৪-সংসারে সকলেই কাম ও ক্রোধের বশীভূত। তাই মূর্খই হোক আর জ্ঞ্যানী হোক,সকলকেই নারীগণ অনায়াসে বিপথে নিয়ে যেতে পারে।

২/২১৫- মাতা,ভগিনী ও কন্যা প্রভৃতির সঙ্গে নির্জন গৃহে একত্রে থাকা সমীচিন নয়। ইন্দ্রিয় গণ অত্যন্ত বলবান ।  তারা জ্ঞ্যানবান চিত্তের ব্যক্তিকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

        অর্থাৎ মা, ভগিনী,কন্যাও ধর্ষিত হতে পারে । পুরুষকে সমর্থন করা হয়েছে।

৯/১৪- নারী রূপ বিচার করে না। বয়স বিচার করে না। সুরূপ বা কুরূপ যেকোন পুরুষ পেলেই তারা ভোগের নিমিত্ত অধীর হয়ে পড়ে।

৯/১৫-পুরুষ দর্শনে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে চিত্তচাঞ্চল্য উপস্থিত হয়। স্বামী কর্তৃক যতই সুরক্ষিতা হোক না কেন,তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে।

৯/১৬- বিধাতা কর্তৃক নারীদের স্বভাব এইভাবে গঠিত হয়েছে জেনে পুরুষেরা তাদের স্ত্রীদের প্রতি সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।

৯/১৭- নারীদের সৃষ্টিকালে মনু তাদের মধ্যে স্বভাবতঃ শয্যা,আসন ও অলংকারের প্রতি অনুরাগ এবং কাম, ক্রোধ,কুটিলতা,ঈর্ষা,কদাচার প্রভৃতি প্রবৃত্তি সঞ্চার করেছেন।

৯/২- স্বামী এবং পরিবারের পুরুষগণ স্ত্রী লোকদের দিবারাত্র কখনো স্বাধীন ভাবে থাকতে দেবে না। সংগত ভোগের মাধ্যমে তাদের সর্বদা বশীভূত করে রাখবে।

৯/৩- কুমারী অবস্থায় সে পিতার,যৌবন কালে স্বামীর এবং বার্ধক্যকালে পুত্রের রক্ষণাবেক্ষণে থাকবে। নারী কখনো স্বাধীন ভাবে থাকতে পারে না।

৫/১৪৭- নারী বালিকাই হোক,  যুবতীই হোক বা বৃদ্ধাই হোক গৃহমধ্যে হলেও স্বাধীন ভাবে সে কোন কার্য করতে পারবে না।৫/১৪৯- নারী কখনো তার পিতা বা স্বামী বা পুত্রের থেকে আলাদা হয়ে থাকবে না। তাহলে সে পিতৃকুল ও পতিকুল উভয়কলের কলংকভাজন হবে।

     ব্রাহ্মণ দের এই মতবাদ,যারা নারী কে মানুষ নয় ভোগ্য পণ্য মনে করে। শুধু পণ্য নয় “ভোগ্য পণ্য” সেজন্য আজো বিয়ে দিতে গেলে পণ, পণ অনাদায়ে শারীরিক,মানসিক নির্যাতন, হত্যা নয়তো আত্মহত্যায় বাধ্য করা। এই ভাবধারা অনুসারে নারী দুর্বল,নিজস্ব কোন অধিকার নেই।

   তাই তো একা নারী শরীর পেলে খুবলে খেতে ইচ্ছে করে, হোক না সে ছয় বছরের, যুবতীদের কথা তো ছেড়েই দিলাম। সে যদি আদিবাসী বা দলিত হয়, তাহলে তো দুর্বল, আরো মজা বেশি রাস্তার মাঝেও কাপড় খুলতে বাধা নেই। এমনকি বৃদ্ধারাও ছাড়া পায় না।

    মানুষের মনের মধ্যে এই ব্রাহ্মণ্য ভাবধারা সূক্ষাতিসূক্ষ ভাবে প্রবেশ করেছে, মানুষ নিজের সুস্থ চিন্তাশক্তি হারিয়েছে,এই ভাবধারা সমাজকে কলুষিত করেছে। এই ব্রাহ্মণ্যবাদী ভাবধারা থেকে মানুষ যেদিন,মানুষের ভাবধারায় আসবে, নারী  কে নারী নয়, মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখবে, সেদিন নারী মুক্তি পাবে সমস্ত ধরিত্রীর অধিকার নারীর হবে, সে কখন বেরবে, কোথায় বেরবে সে নিজেই নির্ভয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

(ছবি- ফে.বু.ও  bharatiya bigyan o yuktibadi samiti)   (ললিতা হেমব্রম)

3Shares

1 thought on ““ধর্ষণ কেন” /ব্লগ পোস্ট (লেখিকা-ললিতা হেমব্রম)

  1. Besh valo lekha madam….MANU SANGHITA er provab BHARATIYA SAMAJ babosthai ottonto probol chilo ja bartamane kichuta hole komleo TAR Provab aj o manuser moddhe roye gache r seta EI RUP kukormer jonno Kichu ta holeo dayi……
    Samprotik kichu RAPE er ghatana amader ADIBASI samaj eo dekha jacche..Ebong Tate ADIBASI rai JORITO thakche ja ottonto VABBAR BISOY..Tar Karan NON-ADIBASI vabnar provab thakleo kothao na kothao amader sangskriti er ADHAPATAN ba GURUTYO kome jawa o dayi….amra AMADER NEW GENERATION k Sathik path Dekhate parchi na…Eta niye amader vabbar drkr ache

Leave a Reply

Your email address will not be published.